রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

খানসামা কাঁপাবে ‘কালা পাহাড়’

মাসুদ রানা,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি; / ৩৬৯ বার
আপডেট : শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩

  1. মাসুদ রানা,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি; দিনাজপুরের খানসামা কাঁপাবে ‘কালা পাহাড়’। এটি কোন সিনেমা কিংবা গল্পের শিরোনাম নয়। এটি কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত করা গরুর নাম। বিশালকার এ গরুটি নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে মাতামাতি। বিভিন্ন স্থান থেকে গরু ব্যবসায়ীরা দেখতে আসছেন, করছেন দরদাম। তবে গরুর মালিক এখনই খানসামার কালা পাহাড় ছাড়ছেন না। আশায় আছেন দাম ভালো পেলেই তিনি ‘কালা পাহাড়’ তুলে দেবেন ক্রেতার হাতে।কোরবানির ঈদ এলেই দেখা মেলে বাহারি নাম ও বিশাল আকৃতির গরুর। এবারও এর ব্যতয় ঘটেনি। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে গরু মোটাতাজাকরণের পর হাটে নেয়া হয়। বেশ যত্ন করে গড়ে তোলা বিশাল আকৃতির গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ।এই ‘কালা পাহাড়’ দেখতে যাচ্ছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুবুলিয়া গ্রামের খামারি নিয়ামত্যুল্লাহ শাহ এর খামারে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচন্ড রোদ ও তাপ থাকায় গরুটিকে দিনের বেলায় ৬ হতে ৭ বার গোসল করানো হয়। গরুটির মাথার উপর সব সময় ৩ টি ফ্যান ঘোরে। দেখা শুনার জন্য একজন কর্মচারী রয়েছে। বেশ কয়েকজন গরু ব্যবসায়িরা ধারনা করে বলেন গরুটি প্রায় ২৫ থেকে ২৭ মণ মাংস হবে। তারা গরুটির দাম বলেন ১৪-১৫ লক্ষ টাকা।গরু খামারী নিয়ামত্যুল্লাহ শাহ বলেন, আমি প্রায় ৬ বছর ধরে গরু পালন করে আসছি। এর পাশাপাশি আমি একজন ব্যবসায়ী। প্রতিটি গরু যত্ন পালন করে গরুগুলি বিক্রি করি। কিন্তু এবার আমার টার্গেট ছিলো ২০-২৫ মণ ওজনের গরু করবো। আল্লাহ আমার আশা পূরন করেন। আমার গরুটি এতটাই বড় হয়েছে যে আমার গরুটি গোয়াল ঘর থেকে বেড় করতে গেলে আমার ইটের দেয়াল কেঁটে বেড় করতে হবে। এই কালা পাহাড়কে ১০-১৫ জন ছাড়া গরুটি আটকানো যাবে না। অনেক গরু ব্যবসায়ী গরুটি দেখে ১৪-১৫ লক্ষ করে দাম বলে যায় । কিন্তু আমার দামে পছন্দ হয় না। বর্তমান গরুটিকে ২৪ ঘন্টায় ১২শ-১৫শ টাকা খাদ্য খায়। সামনে কোরবানি ঈদ রেখে ভালে দামে বিক্রির আশা।স্থানীয়রা বলছেন, গো-খাদ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই গরু-ছাগল পালন বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক খামারী ছেড়েছেন এই পেশা। তারপরও আমাদের এলাকায় এই রকম একটি সাড়া ফেলবে এই গরুটি সেটা কল্পনা করে নাই। সে ভালো দাম পেলে অনেকেই কোরবানির গরু পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন,‘ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালনে অনেকেই আগ্রহী হন না। তবে, নিয়ামত্যুল্লাহ শাহ সফল হয়েছে। গরুটির বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি এবং গরুটিকে যাতে কোন প্রকার ওষুধ প্রয়োগ না করা হয় সেজন্য আমরা মনিটরিং করেছি। গরুটি পালনে আমরা তাকে নানা পরামর্শ দিয়েছি। ভবিষ্যতে এরকম গরু যদি কেউ পালন করতে চায়, আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হবে।
Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ