রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

কামালপুর কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক বট বৃক্ষ

আব্দুল্লাহ আল মুর্তজা বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: / ৪০০ বার
আপডেট : রবিবার, ২৮ মে, ২০২৩

আব্দুল্লাহ আল মুর্তজা বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: এই বটগাছটির জন্ম ১৯১৫ সালে। সম্প্রতি বটগাছের বয়স ১০৭ বছর ৫ মাস। ক্রমাগত গাছটি বড় হতে থাকে। এক সময় শাখা-প্রশাখায় পত্র পল্লবে ছায়াযুক্ত হয়। বোনবাজারের লোকজন রুদ্রাক্ষে এই সু শীতল ছায়াযুক্ত বটগাছের নিচে বসে আরাম-আয়েশে গল্পগুজব করত। বাতাসে পাতাগুলো ছন্দে ছন্দে দোলা দিত। তার দোলানীতে কি মধুর সুর ধ্বনিত হয়। শ্রুতি আছে যে, এই বন বৃক্ষের নিচে হযরত শাহ কামাল (রহ) আপন মনে জোড়াত এবং বিশ্রাম নিতেন। তিনি এই পথে যাওয়া আসার সময় গাছের নিচে বিশ্রাম নিতেন সর্বদা তাই তার নামানুসারে এই এলাকার নামকরণ হয়েছে কামালপুর। এই কামালপুর একটি ঐতিহাসিক স্থান বা গ্রাম। এই বট গাছকে ঘিরে এক সময় এখানে হাট বাজার বসে। চারপাশের গ্রামের লোকজন প্রত্যহ বাজারে এসে বিভিন্ন সওদা কেনাবেচা করে করতেন। শনিবার ও মঙ্গলবারে গোমহিস বেচাকেনা হত এই হাটে। এখানে স্কুল মাদ্রাসা ব্যাংক বিভিন্ন এনজিও অফিস স্থাপিত হয়েছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন কে কেন্দ্র করে ১৯৭১ সালে পশ্চিমা শোসকগোষ্ঠীর সাথে নয় মাসব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হয়,। এই যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের ৯ মাস ব্যাপী যুদ্ধ চলে। সেই যুদ্ধের নাম মুক্তিযুদ্ধ। এই দেশকে মুক্ত করার জন্য আপামর জনগণ রক্ত দিয়েছে। রক্তের বন্যা বয়ে গেছে এই মাটিতে। কামালপুর বর্তমান বিজিবি ক্যাম্প ছিল পশ্চিমা অত্যাচারী দের আস্তানা আর এই বটবৃক্ষ ছিল তাদের দিক দর্শনের সিঁড়ি ও গ্যালারি। পাক হানাদার বাহিনী এই বট গাছের মগডালে তক্তা দিয়ে মাচা তৈরি করে বসে মুক্তিবাহিনীদের প্রতি টার্গেট করত। লক্ষ্যবস্তু স্থির করে বোমা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটাত। তারা ঘরবাড়ি জ্বালাও পুরাও করে ছাই করে দিত। গণহত্যা করতো। মা বোনের ইজ্জত ছিনিয়ে নিতো। রাস্তার ব্রীজ ফুল ভেঙ্গে তছনছ করে দিত। রাতের অন্ধকারে অতর্কিত গুলি বর্ষণ চালাত। সন্ধ্যা হলে সমস্ত জনপদ জনশূন্য হয়ে যেত। রাজাকাররা ছিল ওদের দোসর। অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনদের বুটের তলায় পিষিয়ে মারতো। আর এই ধানুয়া কামালপুর ১১ নং সেক্টরে কালের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে এই বটবৃক্ষ।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ